মাত্র ২ মাস আগে বলেছিলাম গোল্ড বছরের শেষদিনে গিয়ে ২ লাখ ৭ হাজারে হিট করবে - Gold Investment

 এটা ছিল গোটা বছরের গোল্ডের দাম বৃদ্ধির হারের একটা ক্যালকুলেশন । কিন্তু যখনই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে আবার হাউকাউ শুরু করে দিলো সব গাণিতিক গণনা ফেইল করলো । আমরা দেখতে পাচ্ছি অক্টোবরেই গোল্ড ২ লাখ হিট করতে যাচ্ছে । তারপর আরো দুই মাস বাকি থাকবে । এবং এই সময়ে খুব সম্ভবত যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে । তাহলে সোনা কই যাবে আমি জানি না ।

আমেরিকা অজানা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাদের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রগুলি কাতারে জমা করেছে । আর প্রচুর পরিমাণ যুদ্ধবিমান কাতারে এসেছে । অন্যদিকে ভুমধ্যসাগরে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোরড আনা হয়েছে । পারমাণবিক শক্তিচালিত যা একবার জ্বালানী ভর্তি করলে ২৫ বছর চলে পুনরায় জ্বালানী ভর্তি করা ছাড়াই । সেখানে ৭৫ টা ফাইটার প্লেন বহন করা যায় ।



ইসরায়েল ইরানের সাথে এবারের যুদ্ধে আমেরিকাকে সরাসরি যুক্ত করাতে চাচ্ছে মনেপ্রানে এবং তার অংশ হিসাবেই সম্ভবত আমেরিকা এরকম সমরপ্রস্তুতি নিয়ে এসেছে । ইরানও বসে নাই । তারা ইঙ্গিত দিয়েছে এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে এন্টি শিপ মিসাইল ছুড়তে পারে যদি ইরান অস্তিত্ব সংকটে পরে । আমেরিকান গ্যাং চাচ্ছে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম একেবারে নিঃশেষ করে দেয়া, আয়াতুল্লাহ খামেনির রেজিম পরিবর্তন করা অথবা ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়া যেন ইসরায়েলের জন্য এটা ঝুঁকিপূর্ণ না থাকে ।
আমার ধারণা, এতো প্রস্তুতি, এতো বিশাল এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নিয়ে এতো এতো বিমান, বি২ বোমারু, এতো এতো রিফুয়েলিং প্লেন নিয়ে আসার পেছনে বিশাল যুদ্ধের ইঙ্গিত রয়েছে । একেবারে ধ্বংসাত্মক একটা যুদ্ধ হতে যাচ্ছে । অলআউট একটা যুদ্ধ হবে মধ্যপ্রাচ্যে । ইরান একেবারে ধ্বংস হতে যাচ্ছে তবে নিজেদের সবটুকু দিয়ে ওরাও মরণ কামড় দিবে ।
এতোকিছু বললাম আগামী সময়গুলির ভয়াবহতা বুঝাতে । যারা বিনিয়োগকারী রয়েছে তারা জানে আমেরিকা নতুন একটা যুদ্ধের ভেতর আটকে যাওয়া মানে ডলারের দাম কমা এবং আমেরিকার অর্থনীতি আরও নিচে নামা । এইসব ব্যবসায়ীরা লস চেনে না ।
সম্প্রতি দেখলাম ওয়ারেন বাফেট কোন একটা কোম্পানিতে তার সব শেয়ার বিক্রি করে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে । হঠাৎ কেন সব বেঁচে দিলো ? এর আগে বলেছিলাম আদার ব্যাপারি যদি এরকম বড় জাহাজের টুকটাক খোঁজ রাখে এবং তাদের অনুসরণ করে তাহলে আদার ব্যাপারিও একদিন জাহাজের মালিক হয়ে উঠে । আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন বাফেট সাহেব গোল্ডে ইনভেস্ট করতে যাচ্ছেন । অবশ্যই সেটা গোপণে করবেন । তাদের মত লোকদের গোল্ডে বিনিয়োগ থাকে তবে সেটা অপ্রকাশ্যে কেননা এসব প্রকাশিত হলে গোল্ডের বাজার আরও অস্থির হয়ে যাবে ।
ইরান যদি ইউএসএস জেরাল্ডের উপর পাল্টা হামলা চালায় এবং এর ক্ষতি নাও করতে পারে সোনা এতো উঁচুতে লাফ দিবে যে বাঙালি মেয়েরা সোনার অলংকারের কথা প্রায় ভুলে যাবে । ভুলে যেতে হবে । করার কিছু নাই । তখন রুপার দিকে আবারো সবাই ঝুকবে এবং রুপার বাজার হইহই করে বৃদ্ধি পাবে । সেজন্য বলেছি সোনায় যাদের সামর্থ্য নাই রুপা কিনুন । আগামী দিনগুলিতে রুপা রাজত্ব শুরু করবে । কারণ গোল্ড অলরেডি অধিকাংশ পরিবারের ক্রয়ের বাইরে চলে গেছে । আপনি আমি গোল্ড ব্যবহার না করলেও এটা আকাশের দিকে যেতেই থাকবে ।
এবং আপকামিং যুদ্ধের গোটা সময় এবং ২০২৬ সালে ইউরোপ পরিস্থিতি আরও জটিল ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেলে সোনা যে কই যাবে সবার চিন্তার বাইরে । বলেছিলাম যে ৩ লাখ অতিক্রম করবে, যদি এখনকার মত অবস্থা থাকে । আর যদি উপরে আলোচনা করা সম্ভাব্য যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি জটিল থেকে জটিলতর অবস্থায় চলে যায় এই সোনা ৪ লাখের বেশী হিট করবে ২০২৬ সালের শেষে । হয়তো আরও বেশী ।
২০২৫ সাল শেষ হয়নি । এখনো ৩ মাস বাকি । যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব চলমান । বাজার গরম । সোনা ঠাণ্ডা হওয়ার কোন ইঙ্গিত নাই । কখনো ছিল না । সামনে সোনার আঁচে হাত পুড়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।
বলে রাখছি আগামী বছরগুলিতে রুপা বিগ প্লেয়ার হয়ে উঠতে যাচ্ছে 💀

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.