রূপার প্রকারভেদ কি কি ? হলমার্ক কি ?

 যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটির কিছু চেনা শপে রুপার বার অর্ডার করলে এনে দিতো, তারা রুপার নাম শুনতেই চাচ্ছে না । তাদের শপে কিছু রুপার ৫-১০ গ্রামের বার ছিল কিন্তু সোনা ২ লাখ হিট করতেই সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে । সন্দেহ করছি, দাম বাড়ার পর সেগুলি আবার আউটলেটে ফিরে আসবে ।



আমাদের মহল্লার ভেতর ছোট একটা জুয়েলারি রয়েছে যারা রুপার অলংকার বানায় তারা বললো, বাজারে রুপার কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে । বড় কিছু জুয়েলারি শপ রূপার বার ও মুদ্রা কাস্টমারের চাহিদা মত অর্ডার করলে বানিয়ে দিতো, তারা ইস্তফা দিয়েছে ।
বাসা থেকে বেরিয়ে যমুনাতে গেলাম । কয়েকটা শপে কথা বললাম, তারা বললো ২ লাখ হিট করার পর সোনার ক্রেতা নাই বললেই চলে এবং কাস্টমার সোনা বিক্রি করতে সারাদিনে একজনও আসে নি । জি স্যার, এটা যমুনা ফিউচার পার্কের চিত্র । একজন ব্যবসায়ী বললেন, সোনার ক্রয়-বিক্রয় যদি এরকম থমকে যায় এবং শতকরা ৫ শতাংশ লোকও ক্রয়-বিক্রয় না করে তাহলে সোনা অস্বাভাবিক গতিতে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকবে ।
এই জুয়েলারির লোকেরাই বললো আগে যেমন রুপার অর্ডার টুকটাক পেতো তারা গত কিছুদিন যাবত রূপার অলংকারের অর্ডার অত্যাধিক বেশী পাচ্ছেন । তারা ভাবছেন, সোনার কাস্টমারেরা রুপাতে সরে যাচ্ছে এবং তুলনামুলক সস্তা হওয়ায় প্রচুর অর্ডার জমা হয়েছে ।
যদি এতো বড় শোরুমে এই চিত্র হয় তাহলে সারাদেশে রুপার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বুঝা যাচ্ছে । এবং রূপার দাম প্রতি ভরি ৩৬০০ টাকা হলেও কয়েক মাসের ভেতর এক লাফে ১০ হাজার টাকা কিংবা আরো বেশী বেড়ে যেতে পারে । এটা আমার ভাবনা মাত্র । কিন্তু চাহিদা থাকলে দাম বাড়বে স্বাভাবিক ।
এখন কথা হলো, আপনারা রুপার কোন মাধ্যমটা ক্রয় করবেন ? যেহেতু বিনিয়োগধর্মী আলোচনা করি তাই রূপার বার বা স্টিক/রড আকারে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলি সংগ্রহ করবেন । দেরি করলেই দাম আরও বেড়ে যেতে পারে ।
আমি পূর্বেই বলেছি সোনা সম্পর্কে যেমন জানি রুপা সম্পর্কে এবং রূপার বাজার সম্পর্কে আমার এতো ধারণা নাই । কিন্তু আপনাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমি খোঁজ নিচ্ছি ও জানার চেষ্টা করছি ।
বায়তুল মোকারমে এক ভরি রুপার স্টিকের দাম ২৭০০-২৮০০ টাকা । কিন্তু বাজুসের চার্টে দেখা যাচ্ছে ৩৬০০ টাকা । যেখানে চার্ট ধরে বাজার সম্প্রসারন করা হয় সেখানে রূপার দামে এতো তফাৎ কেন আমি জানি না । এটা জানতে মার্কেটে ঘুরে দেখতে হবে । আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ না তাই দূরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।
এখন কথা হলো কোন ধরণের রুপা ক্রয় করবেন ?
রূপার কয়েকটা ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে । স্টারলিং সিলভার ও ফাইন সিলভার ।
স্টারলিং সিলভারঃ ১১ শতকে প্রথম এডওয়ার্ডের সময়ে পেনি সিলভার প্রচলিত করেছিল এই রাজা । তাতে ৯২.৫% খাটি রুপা ও ৭.৫% ধাতু মিশ্রণ হতো । যেহেতু এই রুপার ভেতর অন্য ধাতু মিশ্রণ করে একে শক্ত করা হতো । একাধিক ধাতুর মিশ্রণের জন্য একে স্টারলিং ডাকা হতো । সেই থেকে রূপার এই প্রসেসের কারণে একে স্টারলিং সিলভার বলা হয় ।
আরেকভাবে একে বলা যায়, সেটা হলো রূপার একটা বার বা যেকোনো সাইজের টুকরাকে যদি ১০০০ ভাগ করে তাতে ৯২৫ ভাগ বিশুদ্ধ রুপা এবং ৭৫ ভাগ কপার ও অন্যান্য ধাতু মিশ্র করা হয় তখন সেই সিলভারের গায়ে ৯২৫ লেখা থাকে । এটা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন এটা স্টারলিং সিলভার ।
ফাইন সিলভারঃ ৯৯.৯% বিশুদ্ধ রুপা যদি কোন বারে থাকে তাহলে একে ফাইন সিলভার বলে এবং এই বারগুলিতে ৯৯৯ ফাইন সিলভার লেখা থাকে । এই রুপা খুব নরম হয় এবং এটা দিয়ে ডিজাইন বানানো যায় না । যাবতীয় ডিজাইন বা অলংকারের কাজ স্টারলিং দিয়েই করা হয় ।
আমাদের বাংলাদেশী ছ্যাচ্চর ব্যবসায়ীরা শুধু ৯২৫ ও ৯৯৯ লিখেই কাজ শেষ করে ফেলে । আর কিছু লেখা থাকে না । এর দ্বারা সহজেই স্ক্যাম করাও যাচ্ছে । এটা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থি । বারের বডিতে পুরো নাম লেখার রীতি রয়েছে ।
এছাড়াও রূপার গায়ে ৯৫৮ লেখা থাকে । এর মানে সেই রুপা ৯৫.৮% ভাগ খাটি এবং বাকি ৪.২% বা ৪২ ভাগ তামা, কপার বা সংকর ধাতু থাকে ।
বাজুসের নিয়মানুযায়ী কেউ যদি রূপার অলংকার এক্সচেঞ্জ করতে চায় তাহলে ৩০% বাদ দেয়া হবে । আর যদি বিক্রি করতে যায় তাহলে ৪০% দাম কমে যাবে । আমি এখনো জানি না, বার বা স্টিকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কি না । কারণ, সোনার কয়েন, বার এবং গয়নার হিসাব কিন্তু এক নয় । তাই আমার ধারণা বার বা স্টিকের হিসাবও আলাদা হওয়ার কথা । যদি এক রকমও হয় তবুও টেনশনের কিছু নাই । আপনি যদি এখন এই রেটে রুপা বেশী করে কিনে রাখেন তাহলে ৫-১০ বছর যদি বিক্রি করতে যান ততদিনে রুপার দাম আকাশছোঁয়া অবস্থায় চলে যাবে যেহেতু সোনা হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে প্রায় । ব্যাংক, সঞ্চয়পত্রের চেয়ে বেটার রেট পাবেন ।
তাছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে রূপার গায়ে যতোই নাম্বার থাকুক না কেন নির্ভরযোগ্য ও অনেকদিন ধরে বিজনেস করছে, সুনাম রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠান থেকে রুপা কিনবেন । এবং হ্যান্ডহেন্ড টেস্টার অথবা এক্সরে ফ্লোরোসেন্স *XRF* মেশিন দিয়ে রূপার বিশুদ্ধতা টেস্ট করে নিবেন । বায়তুল মকারম, তাতিবাজারে ল্যাব টেস্ট করার সুযোগ রয়েছে । যারা টেস্ট করে দিবে তার নিকট থেকেই কিনবেন এবং ক্রয়ের রসিদ হারাবেন না । এটা লেমিনেটিং করে রেখে দিবেন । এটা থাকলে সেই দোকানেই বিক্রি করতে পারবেন এবং রেট অনেক ভালো পাবেন । কেবল ক্রয় রশিদ থাকলেই ডিসকাউন্ট রেট অনেক কমে যায় । কারণ বিক্রেতা বুঝতে পারে আপনি তাদের পুরাতন ক্রেতা । নিজের ক্রেতার সাথে প্রতিটা বিক্রেতাই সেরা লেনদেন করে ।
যদিও রুপাতে হলমার্ক এখন বাধ্যতামুলক তবুও উল্লেখিত নিয়মে টেস্ট করে নিবেন । হলমার্ক দেখেই গদগদ হয়ে উঠবেন না ।
হলমার্ক কি ?
রূপার বিশুদ্ধতার মাত্রা হিসাবে যেমন ৯২৫ স্টারলিং লেখা থাকবে । বিশুদ্ধতার মাত্রা খোঁদাই থাকে, এটাই হলমার্ক । সোনায় ক্যারেট ১৮ক্যা, ২১ ক্যা, ২২ ক্যা, উল্লেখ করা থাকে । এটাই হলমার্ক । হলমার্ক ছাড়া কিনবেন না । এগুলি ভারত থেকে আসা চোরাই সোনা-রুপা । এসব বিক্রি করতে গেলে আইনগত ঝামেলায় পড়তে পারেন ।
ভবিষ্যতে অলংকার বানাতে পরিকল্পনা থাকলে ৯২৫ কিনবেন । যদি ৫-১০ বছরের বিনিয়োগের প্ল্যান থাকে তাহলে ৯৫৮ বা ৯৯৯ কিনবেন । ৯৯৯ বেস্ট অপশন ।
পরেরবার রূপার দামের হিসাব নিয়ে লিখতে চেষ্টা করবো । অনেক বড় হয়ে গেছে । আর বড় করতে চাই না । তাতা

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.