গোল্ড নাহ, সিলভার (রূপা) কিনবো - Silver Investment

 বিনিয়োগের জন্য ইচ্ছা থাকলেই হয় না, সামর্থ্য থাকা চাই। মধ্যবিত্ত মানুষেরা ব্যাংকিং জগতের প্রতি যে আস্থা রেখেছিল তা বিগত সরকার নষ্ট করেছে।



কিছু ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না এটা একটা অনিশ্চয়তা, আবার দ্রব্য-মূল্যের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধিতে টেকনিক্যালি টাকার মান কমে যাচ্ছে।
দেড় হাজার বছর আগে আরব দেশে এক দিনারে (৪.২৫ গ্রাম সোনা) একটা ছোট দুম্বা পাওয়া যেতো। বর্তমানেও এক দিনারে ছোট দুম্বা পাওয়া যায়। (দিনার- সোনা, দিরহাম- রুপা)
দেখুন, সোনার দামে কোন তফাৎ হয়নি। সোনা হাজার বছর ধরে তার দাম ধরে রেখেছে একই স্থানে।
এখন কথা হলো, সোনা কেনার সামর্থ্য সবার নাই কিন্তু টাকার মান ধরে রাখতে জমি কেনার অবস্থাও দূর আকাশের তারার মত। তাহলে বিকল্প পথ হলো "রূপা"।
বিনিয়োগ যখন করতেই হবে সস্তা, খাঁদযুক্ত রূপায় টাকা নষ্ট করবেন না। ২২/২৪ ক্যারেট কিনুন। ২২ ক্যারেটের বার / কয়েন সবখানে পাবেন। ২৪ ক্যারেট পাবেন বিদেশ ফেরত লোকদের কাছে। সোনাও তাই। দুজন মিলে নিরপেক্ষ বড় শোরুমে গিয়ে সোনা/রূপা টেস্ট করে নিন। টেস্ট বাদে শুধু স্লিপ দেখে কিনলেই কট। প্রতারক আপনার চতুর্দিকে ঘিরে রয়েছে।
আর ২২ ক্যারেটে আস্থা রাখতে চাইলে প্রতি গ্রাম রূপা ২৯৮ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। ১১.৬৬৪ গ্রামে এক ভরি। প্রায় ৩৫০০ টাকা। দশ হাজার টাকার রূপা কিনে রাখতে পারেন। অথবা ব্যাংকে রেখে সুদ পেতে না চাইলে রূপায় ইনভেস্ট করা যায়। অল্প টাকা করে প্রতি মাসেই সেভিংস হিসাবে বার কিনতে পারেন। এটা সহজ।
১৯৭১ সালে রূপার ভরি ছিল ২০-২৫ টাকা। তখনকার দিনের ২০ টাকার সাথে এখন তুলনা করলে সমস্যা। সেদিক থেকে রূপার দাম সেভাবে বাড়ে নি। তবে,
বিগত তিন বছরে বেশ বদলে গেছে বাজার।
২০২৩ সাল - ২১০০ টাকা
২০২৪ সাল - ২৮১১ টাকা
২০২৫ সাল (সেপ্ট) - ৩৪৭৫ টাকা।
তার মানে প্রায় ১.৫৪% হারে বেড়েছে। উল্লেখ্য, যেকোন কারণে রূপার দাম স্থিতিশীলও হতে পারে। আবার বাজার চড়া হতে পারে। অন্যদিকে সোনা অন্তত ৮-১৫% হারে দাম বাড়ে। সোনা বা রুপা যেখানেই বিনিয়োগ করেন না কেন উভয় ব্যবস্থা হালাল।
ভবিষ্যতে বাজার চড়া হলে রুপার দাম বৃদ্ধির হার আরো বাড়বে। গত সপ্তাহে টিভিতে একজন এক্সপার্ট বললেন, বর্তমানে ১-২% মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সোনা রুপা ক্রয় করছে। আগামী কয়েক বছরের ভেতর বিভিন্ন মাধ্যমে উৎসাহ, ব্যাংকের অচলাবস্থা, ইনফ্লেশন বাড়লে এই সংখ্যা ৫-৭% হতে সময় লাগবে না।
তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সংখ্যাটা ১৫% এর অধিক বিধায় ফেসবুকে সোনা রূপা ক্রয় বিক্রয়ের প্রচুর গ্রুপ তৈরী হয়েছে। যাদের বেশি টাকা আছে তারা সোনা, জমি কিনছে। যার সামর্থ্য কম তারা রূপা ক্রয় করছে। বিশ্বব্যাপী যদি আগুন নাই লাগবে তাহলে লাফিয়ে দাম বাড়ছে কেন?
এবার জানা যাক আসল রুপা চিনবেন কিভাবে?
আসল রূপা চুম্বক আকর্ষণ করে না, নাইট্রিক এসিড দিলে গায়ে দুধের মত সাদা দাগ পড়ে, টোকা দিলে টুং টাং শব্দ হয়। বার বা কয়েনে হলমার্ক থাকে অর্থাৎ কত টুকু খাঁটি সেটা চিহ্নিত থাকে। এসব জিনিস ইউটিউবে ভিডিও দেখে প্রাকটিক্যাল শিখে নিবেন। দোকানদার যতই মিষ্টি কথা বলুক, দেখে শুনে নিবেন।
এরপর আমি শেয়ার করবো জুয়েলারি স্ক্যামিং, যার শিকার হাজারো ক্রেতা 😉
হ্যাপি ইনভেস্টিং... 🙂

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.