বাজুস দাম বাড়ালেও রূপার দাম বাজারে কম থাকে কেন ?
যখন ৬১ ডলার আউন্স তখন দাম ৬ হাজার অথচ ৯১ তে ৩৬০০ ভরি কেন? নদীর অন্য পাশ দেখতে জানা লোকেরা ৫০ ডলার থেকেই ক্রয় করছিলো। এবং যখন ৭০ ডলার ক্রস করলো তখন মাস পিপল ভাবলো সিলভার পাম্প শুরু করেছে অথচ ট্রেডারগণ তখন বিক্রি শুরু করে দেয়। কারণ একটা পণ্য ১০০ টাকায় কিনে ১২০-১৩০ টাকা বিক্রি খুব ভালো ব্যবসা এবং ১৫০ টাকা বিক্রি ঝুঁকিপূর্ণ যা সর্বদা হয় না। কিন্তু সব লাভ তুলে একটু জুয়া খেলা যায়, এই জুয়া হারাম নয় বরং অতি মুনাফা পাওয়ার বড়সর ঝুঁকি যা প্রজ্ঞাবান হোয়েলগণ লাভের অর্থ থেকে বাজি ধরে। যা লস হলেও কিছু ঘটে না।
কিন্তু ৭০ ডলারে কেনা ট্রেডারগণ ১০০ এর জন্য বসে আছে। এদের ভেতর বড় সংখ্যক কট খাবে বা ডাউন ট্রেন্ডে টাকা আটকে বসে থাকা লাগবে পুনরায় পাম্প অবধি। এরা ধৈর্য্যহারা হবে ও অল্প প্রফিটে সেল করবে।
ট্রেড মার্কেটে সবাই জানে বস্তু কোনদিন টার্গেট হিট করে না। আমরা যখন বলেছি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠবে তখন ৮৫ ক্রস করতেই বড় হোয়েলগণ বিক্রি শুরু করে দেয় কারণ তারা বড় হোয়েল কেবল অর্থ দিয়ে হয়নি বরং আগামীকালের চিত্র আগেই দেখতে পায় অভিজ্ঞতার দ্বারা।
এখন কি ঘটছে? ৬১ ডলার আউন্সের সময় বায়িং প্রেশার ছিল তাই দাম বেড়েছে কিন্তু গত পরশুদিন ৮৫ ডলার অতিক্রম করতেই সবাই যখন বিক্রি শুরু করেছে তখন বিকাল থেকে দাম কমা শুরু হয় এবং বর্তমান রেট ৩৬০০ টাকার আশেপাশে দাম রয়েছে চান্দি রূপার। এছাড়া অনলাইনে বিক্রি হওয়া ৯৯৯ ফাইন সিলভার বাজার রেটের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে (বাজুস রেট)। যারা বাজুস রেটে ক্রয় করছে বা বিদেশ থেকে নিয়ে আসছে সেগুলি বিক্রি করার সময় পুরাতন রূপা হিসাবে বিক্রি হয় ও খুবই কম দাম পাওয়া যায় যেহেতু দেশে ২৪ ক্যারেট ও ৯৯৯ ফাইন সিলভারের অফিসিয়াল ট্রেড হয় না। সেজন্য প্রচুর স্ক্যাম চলে ও খেয়াল খুশি মত বেচাকেনা চলে। যে দেশে যেমন সিস্টেম, তার ভেতর থেকে বিজনেস করলে ঠকতে হয় না।
এখন কি প্রত্যাশা করছি? বড় হোয়েলরা যখন জোরেশোরে সেল করা শুরু করবে রূপার দাম ৩ হাজার এর আশেপাশে চলে আসবে। এখন ৩৬০০ রয়েছে, এটা ৩০০০/৩২০০/৩৩০০ হতে পারে। কোথাও হয়ত ২৮০০ টাকা হতে পারে। সেজন্য ওয়েট করতে হবে।
দুদিন আগের পোস্টে বলেছি রূপা ৭০-৭২ ডলারে নেমে যাবে। আশা করছি, উল্টাপাল্টা না ঘটলে ৭০-৭৫ এর ভেতরেই কৌশলগত ডাউন হবে। তখন পুনরায় কেনার সুযোগ তৈরী হবে।
আরেকটা আশংকা আছে, সিপিআই রিপোর্টে ২.৭% দেখা গেছে ও ক্রিপ্টো পাম্প করেছে। এমতাবস্থায় সবাই ক্রিপ্টোতে চলে যাচ্ছে। রূপা এইক্ষেত্রে ৬৫ ডলার বা নিচে যেতেও পারে। এতে বড় সুযোগ আসবে। সেজন্য এক - দেড় মাস অপেক্ষা করা লাগতে পারে যদি আমেরিকা অঘটন না ঘটায়। নয়ত পুরো হিসাব বদলে যাবে।
আপনি কি করবেন?
রুপা সোনার মত পজিশন তৈরী করতে পারে নি। ইন্সটিটিউশনাল গ্রিপ থেকে বের হতে আরো কয় বছর লাগবে। সেজন্য আপনি যদি ৩ হাজারে কেনেন, তাহলে ৪ হাজারে বিক্রি করে দিবেন বা প্রত্যাশামত দাম পেলে ছেড়ে দিবেন। আবার অপেক্ষা করবেন। এতে পাঁচ বছরের টাইমলাইনে অনেকবার ক্রয় বিক্রয় করে বড়সর মুনাফা নিতে পারবেন। আর যদি ভয় পান তাহলে কিনে বসে থাকুন। ৫ বছর পর মার্কেটে সেল করবেন।
কোন মন্তব্য নেই