২০৩০ সালে আফসোসের নাম হবে চান্দি 🔥
চলুন আনুমানিক নয় বরং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করি । বাজুস ও লোকাল সিন্ডিকেটের চাপ দূর করে চান্দি রূপা কত দূর উঠতে পারে ।
পূর্বে আলোচনা করেছি আমাদের লোকাল বাজারে ৯৯৯ ফাইন সিলভার পাওয়া যায় না । যারা বাইরে থেকে এনে বিক্রি করতে যায় তাদেরও যথাযথ প্রাপ্য দেয়া হয় না । সিন্ডিকেট বা জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কারণে দাম কন্ট্রোল করা হয়, অফিশিয়াল ইমপোর্ট পারমিশন না থাকায় লোকাল প্রোডাকশন (স্টিক/বল) ৯৯.৭০%+ পিওরিটি ও ক্যারাট ২৩.৯৪+ দেখানো হয়। দাম সারা দেশে ভিন্ন । কোথাও ৪২০০ টাকা/ভরি, কোথাও ৪৫০০, অনলাইন পেজে ৫০০০+। ৬ মাস আগে ২০০০ টাকা/ভরি ছিল, এখন ৪৩০০+ হয়েছে । এটা গ্লোবাল সিলভারের ২০২৫ সালের ১৬৬% পাম্পের সাথে মিলে যায়।
আজকে ২৫ শে ফেব্রুয়ারিতে সিলভারের প্রাইস ৮৮-৯১ আউন্সে উঠা-নামা করছে ।
গোল্ড-সিলভার রেশিও ৫৭-৫৯ঃ১ অর্থাৎ ১ আউন্স গোল্ড = ৫৭-৫৯ আউন্স সিলভার । যদিও এটা কম কারণ সিলভার রীতিমত আউট পারফর্ম করছে ।
বাংলাদেশে লোকাল মার্কেটে প্রতি গ্রাম ৩৪২-৩৫৬ টাকা । তাহলে প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম = ০.৩৭৫ আউন্স রেটে প্রাইস প্রায় ৪০০০-৪৫০০ টাকা । যেহেতু কিছু রিপোর্টে ২২ ক্যারেট বা ট্রাডিশনাল সিলভার ৬৭০০ - ৭২৯০ টাকা ভরি পাওয়া যাচ্ছে । কিন্তু পিওর বা চান্দি ৪০০০ - ৪৫০০ এর আশেপাশে জুয়েলারি ব্যবসায়ী রেট দিচ্ছে ।
বাংলাদেশে ১ ডলার = ১২২ টাকা ধরা হয় । ব্যাংকে হয়ত ১২০ টাকা কাউন্ট করে । আমি ১২২ টাকা স্ট্যান্ডার্ড মার্কেট প্রাইস ধরছি ।
গ্লোবাল ফরকাস্ট ও লোকাল ইনফ্লেশন রেট ৫-৮% হার এবং লোকাল ফ্যাক্টর বা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখার প্রবণতা ১০-২০% নিয়ে ক্যালকুলেট করলে হয়ত ১৪০-১৫০ টাকা হতে পারে ডলার রেট ।
ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা ও গবেষকদের তথ্য মতে, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় প্রতি আউন্স যদি ৯৭-১৫০ ডলার অনুযায়ী তাহলে ২০৩০ সালে ১৪৫ টাকা ডলার রেটে সিলভারের দাম প্রতি ভরি ৫৫০০-৮৫০০ টাকা হবে । এটা হল সিলভারের খুব বাজে অবস্থা ধরা হয়েছে ।
যদি বর্তমান গ্লোবাল কন্ডিশন ধরা হয় অর্থাৎ আগামী ৫ বছরে ডলার স্থির থাকবে আজকের দিনের মত । কোথাও যুদ্ধ হবে না । ইনভেস্টররা এখনকার মতই স্টক নিয়ে বিজি থাকবে এবং কি হয় কি হয় টাইপের মত টেনশন থাকবে কিন্তু আদৌ কিছু ঘটবে না । এতে গোল্ড যদি কোনরকম চাপ ছাড়াই গায়ে বাতাস লাগিয়ে সর্বোচ্চ ৬৫০০ ডলার আউন্স পর্যন্ত যায় তাহলে সিলভারের দাম হবে ১৪০ - ৩০০ ডলার রেটে সর্বনিম্ন ৮০০০ - ১৭০০০ টাকা ভরি ।
যদি আরো কয়েকটা অঞ্চলে যুদ্ধ বেঁধে যায় এবং ডলার এখনকার মতোই ধারাবাহিক নিম্নমুখী হয় (২০২৫ সালে ১১% কমেছে ও ২০২৬ সালে অন্তত ১০% কমার আশংকা করা হচ্ছে ) ও আমেরিকান জীবনমান এখনকার মতই ধীরে নিচে নামতে থাকে তাহলে ৪০০-৫৭০ ডলার আউন্স হিসাবে অন্তত ২২০০০-৩২০০০ টাকা প্রতি ভরি সিলভারের দাম উঠে যেতে পারে ।
এটা হল আগামী ৫ বছরের সংকীর্ণ, মাঝারি ও ডলারের স্ট্যান্ডার্ড ক্রমান্বয় খারাপ অবস্থা অনুযায়ী একটা প্রাইস প্রেডিকশন যা এক্সপার্টগণ আশংকা করছে । তাছাড়া আমেরিকা যদি কোন যুদ্ধে জড়িয়ে পরে অথবা আমেরিকা বাদে আরও কয়েক ফ্রন্টে যদি যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে সিলভারের দাম একাকি বৃদ্ধি পেতে থাকবে । কারণ মিসাইল ও গাইডেন্স সিস্টেম, ফাইটার জেট, রাডার সিস্টেম, স্যাটেলাইট, সাবমেরিন, ওয়্যারফেয়ার অথবা এক কথায় যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে সিলভার ছাড়া চিন্তাই করা যায় না । এসব যত বেশী উৎপাদন হবে তত বেশী সিলভার দরকার হবে ও দাম বাড়তে থাকবে ।
এবার কিছু ফ্যাক্ট নিয়ে কথা বলা যাক -
আমরা জানি আমাদের গোল্ড ও সিলভারের বাজার আন্তর্জাতিক বাজার অনুসরণ খুব একটা করে না । বাইরে দাম কমলেও সিন্ডিকেট দ্বারা দাম বৃদ্ধি করা হয় । মাত্র ২ মাস আগেই আমরা সিলভার কিনেছিলাম প্রায় ৮৫০০ টাকা ভরি যা সিলভার ৪০% ক্রাশ করায় প্রায় অর্ধেক দামে এসেছে । কিন্তু এই অবস্থা কতদিন থাকবে ? বাজার যখনই বৃদ্ধি পাবে আমাদের ব্যবসায়ীরা কি ক্রেতাদের ক্রয়-ক্ষমতা বিবেচনা করে দাম কমিয়ে রাখবে ? যদি কমিয়ে না রাখে তাহলে সংকীর্ণ বাজার পরিস্থিতিতে সিলভারের দাম যে ৮০০০ টাকা থাকবে এই আশা করা বোকামি ।
আর যদি ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির সাথে চাহিদা মোতাবেক সিলভার সাপ্লাই করে তাহলে বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে এবং বেশী দামে আমদানি করা হলে কেউ লস দিয়ে সস্তায় বিক্রি করবে না । তখন মার্কেট ক্রাশ করলেও তারা লসে বিক্রি না করে বরং বিক্রি স্থগিত রাখবে যা আমরা জানুয়ারিতে দেখেছি । ফলশ্রুতিতে সিলভার আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমে পুনরায় উত্থান হলেও দেশের বাজারে সিলভার ৩ হাজার টাকার কাছে নেমে আসেনি বরং ৪০০০ টাকার আশেপাশে ছিল । তার মানে দাঁড়ায় আজকের দিনের মত বাজার যদি ৫ বছর পর হয় তাহলে সিলভার ১৫০০০ হাজার টাকা গড় অতিক্রম করে ফেলবে ।
আর যদি প্রতি বছর গ্লোবাল কন্ডিশন যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে সেই ধারায় বাজার চলে তাহলে সিলভার হয়ে উঠবে নেক্সট মিনি গোল্ড যার ভরি ৩৫ হাজার অতিক্রম করা অসম্ভব নয় । যেমনটা আমরা দেখতে পেয়েছি গোল্ডের বাজারে । বাজারের সাথে গোল্ড যতোটা অস্থির আচরন করেছে, সিলভার তারচেয়ে বেশী মুভমেন্ট দেখিয়েছে ।
ছোট করে আরও কিছু যোগ করতে চাই, পশ্চিমারা চায়নাকে রেস থেকে সরানোর বহু চেষ্টা করছে কিন্তু বারবার তারা পিছিয়ে যাচ্ছে ও চায়না প্রতিটা জায়গায় স্থান দখল করে নিচ্ছে । জেপি মরগান, সিটি, ব্যাংক অব আমেরিকা ও অন্যান্য ইন্সটিটিউশনাল সংস্থাগুলি যতোই চেষ্টা করুক সিলভারকে নিচে দমিয়ে রাখতে সেটা তারা সক্ষম হচ্ছে না । জেপি বলেছিল ৭০ থেকে নেমে ৫০ ছুঁয়ে ফেলবে কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সিলভার চাইনিজ নিউ ইয়ার অতিক্রম করতেই লাফিয়ে ৯০ ডলার হিট করে ফেলেছে । তার মানে ইন্সটিটিউশনাল চাপ ক্রমেই অতিক্রম করে ফেলছে সিলভার, যে ব্যাপারে আমরা ভেবেছিলাম সিলভার হয়ত কয়েক বছর সময় নিবে এই অবস্থা অতিক্রম করার জন্য । বাস্তবে সেটা কয়েক মাস দেখাচ্ছে ।
৬ মাস আগে বলেছিলাম গোল্ড সবার রেঞ্জ অতিক্রম করবে এবং বাজার যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে পরের ৫ বছরে খুব সহজেই ১০ লাখ টাকা ভরি হওয়া সাধারণ ব্যাপার কারণ বিগত সুশৃঙ্খল দুনিয়াতেই এটা ৫ গুণ বেড়েছে । তাহলে অশান্ত গ্লোবাল কন্ডিশনে গোল্ড কোথায় যেতে পারে সহজেই অনুমেয় ।
অন্যদিকে সিলভার ক্রমেই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে । বিভিন্ন হোয়েল, সুইস ব্যাংক সহ পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠানে ফিজিক্যাল সিলভার এখন নেই । বুঝতে পারছেন তো তারা কিভাবে গোল্ডের পাশাপাশি সিলভারের দখল নিতে যাচ্ছে ?
এটা সবাই বুঝতে পারবে যখন সিলভার আপনার নাগালের বাইরে চলে যাবে । দুইমাস আগে ১০ ভরি সিলভার কিনতে পারতেন ২৫ হাজার টাকায় । এখন কেনা যায় ৫ ভরি । আগামী সময়ে এটা ক্রমেই কমতে কমতে ১ ভরির নিচে নেমে যাবে । আপনারাই আফসোস করবেন আর বলবেন, “আহারে, এতো সস্তা ছিল, কিন্তু না কিনে কি ভুলটাই করলাম” - কথাটা মিলিয়ে নিবেন যেমনটা গোল্ডের ব্যাপারে এখন আফসোস করেন । মনে রাখবেন, গোল্ড ও সিলভার দুইটাই গডস মানি । গডস মানি কেবল স্মার্ট লোকের পকেটেই থাকে । বোকারা শুধু আফসোস করেই দিন কাটায় ।

কোন মন্তব্য নেই