সোনার ভরি ১০ লাখ টাকা: পাগলামি নাকি কঠিন বাস্তবতা?
বাংলাদেশের যা অবস্থা তাতে পরের পাঁচ বছরের ভেতর খারাপ কিছু ঘটবে ধরে রেখেছি। এই দেশের বেলাতেই আমি প্রবাদে বিলিভ করি, "যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ" - বিশ্বের যেকোন প্রান্তে সবাই উন্নতি করে, আমরা করি না। কারণ, আমরা দুর্নীতিগ্রস্থ। আমি খুব করে চাই যারা টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করছে তারা দুর্দিন দেখবে। যাইহোক, এই দেশের ব্যাংকিং সিস্টেম আরো ধ্বংস হবে ১২ তারিখের পর। গত বছর রোজায় সবাই শান্তিতে ছিল। বিদ্যুতের সমস্যা ছিল না, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রিত ছিল। আমরা সুখে ছিলাম। অলরেডি সাগরে ৬০+ জাহাজ ভেসে আছে যারা উচ্চদামে পণ্য বিক্রি করবে। লিখতে চাই একটা, চলে যাই অন্য প্রসঙ্গে। এদেশের এত সমস্যা। যার মূলে জনগণ। সাধারণ জনগণই যারা ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণ করে তারা দেশকে ডোবায়। তারা দেশ চালায় না কিন্তু বাজে নেতৃত্বের হাতে ছেড়ে দেয়। তারপর কপালের দোষ দেয়।
আপনি যদি এই সিস্টেমের শিকার হতে না চান তাহলে হালাল রিজিকের সন্ধান করুন। আবারো বলছি, হালাল রিজিক ছাড়া মুক্তি নাই, দুনিয়াতেও নাই, পরকালেও নাই। সামর্থ্য থাকার পরেও গুড ডিসিশন না নিলে জীবন তেজপাতা হয়ে যাবে। আমার বয়স তিন দশক অতিক্রম করতে বহু দেরি । এর ভেতর রাজকীয় উত্থান দেখেছি, রাজকীয় পতন দেখেছি নিজের। কেবল সঠিক সিদ্ধান্তগুলি আমাকে দ্রুতগতিতে ঘুরিয়ে দিচ্ছে প্রায়। আমি প্রায় ফর্মে ফিরে এসেছি।
কে কেমন বুঝে জানি না, আমি বুঝি আগামী দিনগুলিতে সোনা, রূপা, জমি ছাড়া কোন কিছু আমাদের বাঁচাবে না। অন্য কোন সম্পদ আমাদের খাওয়াতে পারবে না। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনিই আমাকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন, বিদ্যাশিক্ষা দিয়েছেন, আমি যা চাই সেটা নিকটবর্তী করে দিয়েছেন, আমাকে ধাপে ধাপে মুক্তির দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন। তবুও যদি আমি বলি, কোন কিছু লাগবে না, আল্লাহ দেখবে, তাহলে জেনে রাখুন, আল্লাহ তার নির্বাচিত লোক বাদে কাউকে সরাসরি সাহায্য করেন না। রাসূল সা: যদি সেদিন ভোরে মক্কা ত্যাগ করে মদিনার দিকে বেরিয়ে না পড়তেন তাকে হত্যা করা হতো, তিনি যদি ভাবতেন, আমি আল্লাহর রাসূল, আমাকে তিনি সরাসরি সাহায্য করবেন, কাফিরদের উপর পাথর বর্ষণ করবেন, তিনি সেসব চিন্তা করেন নি। তিনি এগিয়ে গেছেন, আল্লাহ সঙ্গ দিয়েছেন। তিনি চতুর্দিক আক্রান্ত হয়ে গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন, শেষ সম্বল হিসাবে মাকড়শার বাসা ও কবুতর দ্বারা আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন।
আপনি কোন পদক্ষেপ ছাড়াই বেঁচে থাকবেন, আল্লাহ আপনাকে বাঁচাবে, সেই আশায় গুঁড়েবালি! যারা দীর্ঘ মেয়াদে সোনা-রূপা কিনবেন তারা বাজেট বুঝে কিনে ফেলেন।
আশংকার কথা বলি, গ্লোবাল টেনশন বাড়ছে। যদিও শর্ট টাইমে কিনে প্রফিট করতে চান, সেল করে আবার কিনতে চান, তাহলে হয়ত কয়েকবার কেনাবেচার পর আপনি হয়ত আর কিনতে পারবেন না। কারণ নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। আপাতত একটা চাপ যাচ্ছে মার্কেটে, এটা কাটিয়ে উঠলেই আবার দৌড়াবে। সেই দৌড় হয়ত সোনাকে সাড়ে তিন লাখের নিকটবর্তী করে থামবে। বাস্তবে ঘটবে কি না জানি না, আশংকা করছি। কারণ, হোয়েলরা তাদের টাকা বাজারে ছড়ানো শুরু করেছে। অচেনা হোয়েলরা বড় বড় বাই অর্ডার দিচ্ছে। এটাই ইঙ্গিত করে বাজার দৌড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাজার দৌড় শুরু করলে, প্যান্টস পরে দোকান খুঁজতে খুঁজতে দাম চান্দে চলে যাবে। তাই সতর্ক হউন।
আপনার জায়গায় আমি থাকলে ১৭-২৩ ফেব্রূয়ারীর এর আশা করতাম না। ধুমধাম কিনে বসে থাকতাম। ভাগ্যের জোরে কিছু সস্তা পেতাম বা পেতাম না। দিন শেষে লাভ দুই পয়সা বেশি হতো বা হতো না। তাতে কিছু যায় আসে না। উইনিং রেসে টিকে যাবো এটাই গুরুত্বপূর্ণ। যারা বারবার প্রশ্ন করেন, "কবে কিনবো, দাম আরো কমবে কি না" তারা শেষে কিনতেই পারবেন না, মিলিয়ে নিয়েন।
ক্রিপ্টো ও গোল্ড মার্কেটে কোন তফাৎ দেখি না। আমি যখন গোল্ড কিনেছিলাম তখন ছিল ৬০ হাজার টাকা। আমি তখন আর্নিং পিকে ছিলাম। ২০২১ সালের কথা। প্রতি মাসে ৩-৪ ভরি করে কিনতে পারতাম। কিন্তু ক্রয় করিনি। কারণ আমি কিনেছিলাম শখ করে। আমি যদি তখন বুঝতাম পাঁচ বছর পর এরকম দৃশ্য দেখা লাগবে তাহলে গোটা একবছরের সব টাকা গোল্ডে ঢুকিয়ে দিতাম। ২০২০ সালের সব ইনকাম ক্রিপ্টোতে ঢুকিয়েছিলাম। হিহিহি। তখন পরিবারের জন্য খরচ করতে হতো না। তাই সেই সময়ের বিবেচনায় এখন আমি অভিজ্ঞ। তখন মার্কেট ছিল শান্তিময়। আমি বারবার বলতাম গোল্ড এক লাখ হয়ে যাবে। কেউ বিলিভ করে নি। আমার লিস্টে বহু ফ্রেন্ডরা হাসতো। কারণ গোল্ড তো খাওয়ার জিনিস না যে দাম বাড়বে। এত ব্যাপকভাবে আমরা চিন্তা করিনি। এখন সিলভারের জন্য সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে। বছর ঘুরতেই টার্নওভার এতো উচ্চ উচ্চতায় উঠে যাবে কল্পনাতেও নাই। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে আমাদের, ঠিক এক বছর পরেই আপনি আমাকে ধন্যবাদ দিবেন। যার সামর্থ্য রয়েছে তিনি সোনাও কিনে রাখুন। দাম গুণে গুণে ৪-৫ গুণ হতে যাচ্ছে।
২০২১ সালের ৬০ হাজার ভরির সোনা ২০২৬ সালে মাত্র পাঁচ বছরে ৪.৩৩ গুণ বেড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখনো এতটা অস্থির হয়নি কিন্তু প্রায় শুরু হয়েছে। ডলারের খারাপ অবস্থা চলমান। প্রতিদিন এটা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এখন যারা কিনবেন ঠিক পাঁচ বছর পরে নূন্যতম ৫ গুণ হবে সোনার দাম। অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা ভরি। আপনারা অনেকেই এই ভয়াবহ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছেন না। আমি পারছি বিধায় এত উত্তেজিত এই ব্যাপারে। সিলভার জাস্ট ৬ মাসের কম সময়ে ১৭০% বেড়েছে। পাঁচ বছর পর যদি রূপা ১ লাখ টাকা ভরি হিট করে তাহলে কতগুণ রিটার্ন আপনি পাবেন ক্যালকুলেটর নিয়ে গুণতে বসে পড়ুন। যারা সোনা মিস করেছেন তাদের জন্য শেষ সুযোগ রুপাতে।
আমার স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির সবাইকে বলবো, সোনা নিয়ে হাসাহাসির ফল তোরা দেখতেই পাচ্ছিস। স্বাভাবিক বাজারে ডলার মান হারিয়েছে প্রায় ২০% এর বেশি। পাঁচ বছর পর তোদের এক কোটি টাকার বেজ প্রাইস হবে ৫০ লাখ বা আরো কমের সমান। মিলিয়ে নিস। যে সরকার আসতে যাচ্ছে তারা অপদার্থ। দুূর্নীতি করতে কোটি কোটি টাকা ছাপাবে আর টাকার মান ধ্বংস হবে। আমার আশংকা শীঘ্রই ডলার ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে ২০০ এর দিকে দৌড়াবে। তাই টাকা নয়, সোনা-রূপা তোদের বাঁচাবে। যদি ভুল করিস আল্লাহ বাঁচায়া রাখলে সেদিন আমি হাসবো। আমি হাসতে চাই না, সেজন্য বলছি টাকা জায়গামত ইনভেস্ট কর। ক্যাশ টাকা অল্প রেখে অধিকাংশ যদি সোনা-রূপা, জমিতে বিনিয়োগ করা যায়, শেষ পর্যন্ত এটাই আমাদের বাঁচাবে। চোখ থাকতে অন্ধ হয়ো না। শয়তান চায় আমরা হাদিসের দেখানো পথে না চলে ধ্বংস হই তারপর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরি। তুই যখন শয়তানকে পরাজিত করতে পারবি সেদিন তুই শান্তিতে বাস করবি। তোরা সবাই ম্যারিড, আমার চেয়ে বেশি চিন্তা তোদের থাকার কথা অথচ কাউকে দেখি না, কোন দুশ্চিন্তা আছে তোদের। পাঁচ বছর পরেও সকাল হবে, সূর্য একইরকম তেজ দেখাবে, আমাদের শারীরিক শক্তি একটু কমবে আর পকেট হয় শক্তিশালী হবে অথবা ধ্বসে পরবে। আমি সর্বদা চাই তোদের সাথে আমার দেখা বা যোগাযোগ না হউক, সবাই ভালো থাক। এই দেশে বাস করলে আগামীকাল কি ঘটবে সেটা দেখা শিখতে হবে অথবা যারা দেখতে পায় তাদের অনুসরণ করতে হবে অবশ্যই। তাহলেই মুক্তি মিলবে ইনশাল্লাহ্!
কোন মন্তব্য নেই