আপনার সোনার গয়না কি এখনই বিক্রি করে দেবেন নাকি কিনবেন? আগে এই পোস্টটি পড়ুন।

 সোনার বাজারে একটা 'জোর করে বিক্রি করানোর' খেলা চলছে। অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী ধার করা টাকা বা লেভারেজ দিয়ে অনেক বেশি পরিমাণে সোনা কিনে রেখেছিলেন। এখন আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ (CME) নিয়ম করে দিয়েছে যে সোনা ধরে রাখতে হলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা জমা (মার্জিন) রাখতে হবে। ফলে অনেকের কাছে বাড়তি টাকা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে হাতের সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। এটাকে বলে 'ফোর্সড লিকুইডেশন'। অর্থাৎ সোনার মান খারাপ হয়ে গেছে তা নয়, বরং ব্যবসায়ীদের পকেটে নগদ টাকার টান পড়েছে বলে তারা সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা জোগাড় করছেন। এই কারণেই আমরা দেখছি চারদিকে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও সোনার দাম হুট করে কমে যাচ্ছে।

একজন সাধারণ মানুষের জন্য মেসেজটা হলো, এই মুহূর্তে সোনার বাজারে চরম অস্থিরতা বা ভলাটিলিটি চলছে। তাই আপনি যদি ভাবেন দাম একটু কমলেই সব টাকা দিয়ে সোনা কিনে ফেলবেন, তবে কিছুটা সাবধান হওয়া জরুরি। কারণ এই মার্জিন কল বা জোর করে সোনা বিক্রির প্রক্রিয়াটি আরও কিছুদিন চলতে পারে। বড় বড় বিনিয়োগকারীরা যখন তাদের পজিশন খালি করা শেষ করবে, তখন দাম আবার স্থিতিশীল হবে। সাধারণত এই ধরনের বড় মার্জিন শকের প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত বাজারে থাকে। তাই হুট করে আজই সব সোনা না কিনে অন্তত আগামী ২ থেকে ৪ সপ্তাহ বাজার পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যদি দেখেন সোনার দাম হুট করে অনেক পড়ে গেছে, তবে সেটা হবে আপনার জন্য ভালো একটি এন্ট্রি পয়েন্ট বা কেনার সুযোগ। কারণ লং টার্মে বা দীর্ঘ মেয়াদে সোনার ডিমান্ড কমেনি। যুদ্ধবিগ্রহ, ডলারের অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা জমানোর প্রবণতা আগের মতোই আছে। দাম যখন আবার বাড়তে শুরু করবে, তার প্রধান কারণ হবে এই 'মার্জিন রুলস' এর চাপ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের পুনরায় বাজারে ফেরা। তখন মানুষ বুঝবে যে সোনার ফান্ডামেন্টাল বা মূল শক্তি ঠিকই আছে, শুধু সাময়িক নিয়মের বেড়াজালে দাম পড়েছিল।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, যারা দীর্ঘ মেয়াদে (১-২ বছর বা তার বেশি) সোনা ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য এই দাম কমে যাওয়াটা একটা আশির্বাদ। তবে এখনই ঝাঁপিয়ে না পড়ে ধাপে ধাপে কেনা ভালো। সামনের এক মাস বাজার বেশ উঠানামা করবে, তাই আপনার বাজেটের পুরোটা একবারে বিনিয়োগ না করে তিন-চার কিস্তিতে কিনলে আপনি গড়পড়তা একটা ভালো দাম পাবেন। মনে রাখবেন, সোনা নিজে সেফ হলেও শেয়ার বাজারের মতো ধার করে সোনা কেনাটা এখন খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.