নিয়ম-কানুন ছাড়া বিনিয়োগে ঝুঁকি রয়েছে - Investment Alert

 আমি আগে গোল্ড নিয়ে কাজ করলেও সিলভার নিয়ে খুব একটা ধারণা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করেছি, বিভিন্ন মার্কেট পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ধীরে ধীরে বাস্তব চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করেছি। সেই প্রক্রিয়াতেই একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে আমাদের দেশে রূপা নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা বা কাঠামো তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতে হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে সেটা নেই।

আমি ২০১৭ সাল থেকে ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ের মধ্যে একটা বিষয় শিখেছি কোনো অ্যাসেটে বিনিয়োগ করার আগে তার ভিত্তি, রেগুলেশন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এক্সিট অপশন পরিষ্কার না হলে সেখানে ঢোকা ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় বিনিয়োগ না করাটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হয়।
এই কারণেই আমি আগেই বলেছিলাম, নির্ভরযোগ্য সোর্স ও স্পষ্ট কাঠামো ছাড়া সিলভারে এন্ট্রি নেবো না। যদিও বাজারের তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি, তবু নিজে কিনে ফেলিনি। কারণ আমার কাছে গোল্ড আছে, তাই শুধু সিলভার ধরতেই হবে,এমন কোনো চাপ নেই। তাছাড়া আমি নিয়মিত ট্রেড করি না, সুযোগ বুঝে করি। সিলভার যে প্রফিট এক মাসে দিতে পারে, সেটা অন্য জায়গা থেকে তুলনামূলক কম সময়ে সম্ভব তাই অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন দেখি না।
আমি সবসময় সেফ দিকেই থাকতে পছন্দ করি। এজন্য যাঁরা ইনবক্সে নক করেছেন, সবাইকে একই কথা বলেছি দেখছি, বুঝছি, পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ আমাদের দেশের বাজারে নতুন কোনো জিনিস এলে প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব পায় না, আবার হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হাইপ তৈরি হয়। এই দুই অবস্থার মাঝখানেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুরুর দিকে দেখা গেছে, সিলভারের তেমন চাহিদা ছিল না। পরে ধীরে ধীরে বাজার থেকে সরবরাহ কমে আসে। এরপর যখন দাম নামতে শুরু করে, তখন অনেকে বিক্রি করেন। এমন সময়ও ছিল যখন ভরি ২৫০০ টাকার আশেপাশে ছিল, তবু আমি কিনিনি। কারণ তখনও কাঠামো পরিষ্কার ছিল না।
পরে যখন দাম বাড়তে শুরু করল, তখনও আমি বলেছি আরও পর্যবেক্ষণ দরকার। নতুন কোনো বিষয়ে আমরা সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেই, কিন্তু সেটাই অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়। যারা প্রশ্ন করেন বা ভিন্ন মত দেন, সেটাও স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তো যার টাকা, তারই।
কয়েকদিন আগে চান্দি ও ফাইন সিলভার নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে শুধু বাজারের বাস্তবতা তুলে ধরেছিলাম। বাস্তবতা হলো ৯৯.৫ আর ৯৯.৯ এর পার্থক্য সাধারণ ক্রেতা বোঝে না, আর অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা ৯৯.৯ এর জন্য অতিরিক্ত দাম দিতে আগ্রহী থাকেন না। ফলে কেউ যদি বেশি দামে কিনে পরে বিক্রি করতে যান, তখন প্রত্যাশিত দাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে যেটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা হলো—অনেক বড় ব্যবসায়ীও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ অনেকেই তুলনামূলক বেশি দামে সিলভার কিনেছেন। যদি ক্রেতারা হঠাৎ কেনা কমিয়ে দেয়, তাহলে বাজারে একটা চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে যেসব অনলাইন পেজ শুধু বিক্রি করে, কিন্তু ফেরত কেনার ব্যবস্থা নেই, সেখানে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ধরা যাক, কয়েক মাস পার হয়ে গেল কিন্তু রূপা নিয়ে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা আসলো না, তাহলে সাধারণ একজন মানুষ কেন দীর্ঘমেয়াদে সেখানে বিনিয়োগ করবে? শুধু হাইপের উপর ভর করে তো বাজার দীর্ঘদিন চলে না।
আমি এটুকুই বলতে চাই যদি কোনো অ্যাসেট ভবিষ্যতে বড় ডিসকাউন্টে পাওয়া যায়, তখন সেখানে ঢোকার যৌক্তিকতা থাকে। নাহলে শুধুমাত্র ট্রেন্ড দেখে ঢোকা ঝুঁকিপূর্ণ। অলংকার হিসেবেও রূপা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। অনেকের কাছে ধীরে, স্থির প্রফিটই যথেষ্ট। কিন্তু দ্রুত লাভের আশায় ঝুঁকি নেওয়াটা সবার জন্য ঠিক না।
সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাকে জানিয়েছেন যে তারা চাহিদার কারণে তুলনামূলক বেশি দামে রূপা কিনেছেন। এখানেই সমস্যাটা তৈরি হয়। বাজারে ভারসাম্য না থাকলে চাপ তৈরি হয়, আর শেষ পর্যন্ত সেই চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতার উপর। দীর্ঘমেয়াদে এটা কারও জন্যই ভালো না।
বর্তমানে দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক দামের তুলনায় সিলভার বেশ প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কতদিন টেকসই হবে সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। ইতিহাস বলে, রেগুলেশন ছাড়া কোনো বাজার দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকে না।
ক্রিপ্টো মার্কেটেও আমরা একই জিনিস দেখেছি। রেগুলেশন না থাকলে অনেক কয়েন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। এখানেও কিছুটা মিল দেখা যাচ্ছে। তাই আপাতত আমি ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক অবস্থানেই আছি।
সবশেষে একটাই কথা বলবো এই লেখাটা কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। এটা শুধুই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। ভিন্ন মত থাকাটা স্বাভাবিক, এবং প্রত্যেকেরই নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া উচিত।
সচেতন থাকলেই ঝুঁকি কমে - এইটুকুই বলতে চেয়েছি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.