পোস্ট পড়ার পর আপনি দেশ থেকে দামী রত্ন পাথর কেনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন - Investment Alert
আমার মনে হয় এই ব্যাপারটা জানার পর আপনি দেশ থেকে দামী রত্ন পাথর কেনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন । আমিও আগ্রহ হারিয়েছি ।
গত বছর কিছু প্রতিষ্ঠান নকল হীরা বিক্রির দায়ে ধরা পরেছে । এই নকল হীরা কিন্তু হঠাৎ করে বিক্রি হচ্ছিল না । অনেকদিন ধরে লেনদেন হচ্ছিল । মুলত ভাগের টাকা নিয়ে গ্যাঞ্জাম হওয়ার কারণে তারা ধরা পরেছে ।
আপনারা যারা দেশ থেকে সোনা রুপা ক্রয় করেন, অনেকেই বিদেশে নিয়ে বিক্রি করেন অথবা বিদেশ থেকে কিনলে দেশে এনে বিক্রি করেন । মেশিন টেস্ট করে দেখতে পান বিদেশ থেকে কেনার সময় যে গ্রেডের সোনা-হীরা কিনেছিলেন দেশে মেশিন বা লেজার টেস্ট করার পর গ্রেড কমে যাচ্ছে । কিংবা দেশ থেকে দামী কিছু কেনার পর যখন টেস্ট করেন ঠিকঠাক দেখালেও পরবর্তীতে যখন অন্যত্র টেস্ট করা হয় বিক্রির সময়, তখনই দেখা যায় মাপ, ওজনে ঠিক নাই । কারণ কি ?
কারণটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে । আমাদের দেশে মেশিন বা লেজার টেস্টের যেসব মেশিন ব্যবহার করা হয় সেগুলি ভুয়া ডাটা প্রদান করে । মুলত এরকম করেই ডিজাইন করে আনা হয় । অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা আপনার কাছ থেকে প্রতারণার দ্বারা অর্থ আত্মসাৎ করছে । বিদেশের খাটি ২৪ ক্যারেট ওদের মেশিনে টেস্ট করতেই ২২ বা ২১ ক্যারেট দেখায় । আসল কথা হলো মেশিনের কারসাজির মাধ্যমে ওজন বা কোয়ালিটি কমিয়ে দেখানো হয় ।
যারা হীরা বিক্রি করতো দেখা গেলো তারা উন্নতমানের কাচ বিক্রি করছে । অথচ তাদের কাছে থাকা মেশিনে ওইটা হীরা হিসাবেই দেখাতো । আসলে মেশিনের আলগরিদম ওইভাবে ডিজাইন করে আনা হয় চায়না থেকে । ওইসব মেশিনে যদি এক চামচ গু রাখেন, রিপোর্টে সোনা বা হীরা হিসাবেই দেখাবে ।
আমি সরাসরি কারো দিকে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছি না । আপনি নিজেই দেশ থেকে দামী অলংকার কিনে বিদেশে বিক্রি করতে গিয়ে দেখেছেন সেগুলি সস্তা রত্ন হিসাবে গ্রেড করা হয়েছে । মূলত ওইটা মেশিনের কারসাজির মাধ্যমে দামী রত্ন দেখানো হয়েছে ।
আজকে জানতে পারলাম দেশে সবচেয়ে বেশী স্ক্যাম হয় হীরাতে । তারপর সোনার দামী দামী অলংকার সেটে । পুরো অলংকারে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ক্যারেট মিশিয়ে কাস্টমারের সাথে প্রতারণা করছে ব্যবসায়ীরা অথচ মেশিনে দেখা যায় খাটি সোনা ।
আরেকটা স্ক্যাম হচ্ছে দানা বা বলের মত রুপাতে । মেশিন টেস্টে ২৪ ক্যারেট বা ৯৯.৫ গ্রেড দেখালেও ওই বলগুলি আসলে বিভিন্ন গ্রেডের মেশানো থাকে । কোন বল ২৪,২২,১৮ ক্যারেট দিয়ে মেশানো হয় । যা কাস্টমার বুঝতে পারে না । কিন্তু যখনই সেল করতে নিয়ে যাবেন তখনই লেজার টেস্টে ব্যাপারটা ধরা পরে এবং দাম কমে যায় ।
XRF Machine দিয়ে টেস্ট করে অনেকে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন । ব্যবসায়ীরা সফটওয়্যারের অফসেট পরিবর্তন করে রাখে । আপনি যখন বিক্রি করবেন তখন গ্রেড কম দেখাবে, তারা যখন আপনার কাছে বিক্রি করবে, একই অলংকার অনেক বেশী গ্রেড দেখাবে । সবই কারসাজি ।
তাই যার সামর্থ্য রয়েছে বিদেশ থেকে দামী অলংকার কিনুন । এই দেশ থেকে যা কিনবেন সেটা বিক্রি করতে গেলেই গ্রেড পরিবর্তন হয়ে যায় । কারণ তাদের মেশিনটাই ধোঁকা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ।
কোন মন্তব্য নেই