সোনা-রুপা নয়, বিনিয়োগের নতুন রাজা লাল সোনা!
যারা বিনিয়োগ করতে চান তারা সোনা-রূপা নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেছেন। মনে মনে হয়ত বিকল্প ধাতু খুঁজছেন!
আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি নতুন ধাতু "কপার" বা তামা। গ্লোবাল পজিশনে সোনা, রূপার পরেই তামার শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমি ইতিমধ্যে জানুয়ারী মাসে "লাল সোনা" সম্পর্কে দুটো আর্টিকেল প্রকাশ করেছি যেখানে তামা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি ও ঘরে সংরক্ষনের প্রক্রিয়া লিখেছি।
এই পোস্টে আমি বলে দেবো কেন আপনি তামাতে বিনিয়োগ করবেন?
তামা হিসাবে পূর্বে তামার তার বা বারের কথা বলেছিলাম। তবে বংশাল ও ধোলাইখালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তামার রড, তামার পাত বা বার, তামার তৈজসপত্র বিক্রি হয় দেশজুড়ে। তবে ইনভেস্টের জন্য তামার রড বা স্টিক, পাত বা বার সবচেয়ে সেরা উপায়।
বাজারে তামার ক্যাপল স্ক্র্যাপ (তারের ভেতরের তামা), আর্মেচার (মোটরের তামা), তামার রড (সিসি তামা), তামার ক্যাবল তার -- এই প্রসেসে দেশে তামা পাওয়া যায় ও একেক ধরণের দাম আলাদা। বিনিয়োগের জন্য ভালো দাম পাওয়া যায় পাত, রড বা তামার কয়েনে। বংশাল বা ধোলাইখালের দোকানগুলিতে এগুলি পাবেন।
পূর্বে বলেছিলাম তামার তারের কথা। এটা দরকার নাই। পাত বা বার অথবা রড কিনলেই যথেষ্ট। একটা এয়ার টাইট বক্সে ভরে রেখে দিবেন। ভেতরে সিলিকা রাখবেন এতে রঙ ধরে রাখবে।
গত পাঁচ বছরে ডাবলের বেশি দাম হয়েছে। মূল্যবান ধাতু সম্পর্কে এনালাইসিস প্রতিষ্ঠান "গোল্ডম্যাম স্যাকস" এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় শতভাগ মিলেছে কপার বা তামার এনালাইসিসসমূহ। তারা বলছে ২০২৬ সালের শেষে কপারের দাম ৭৫% বৃদ্ধি পাবে। কারণ এআই এর রাজত্ব শুরু হতেই কপারের ডিমান্ড বৃদ্ধি পাওয়া মূলত শুরু হয়েছে।
ভাবতে পারেন এআইতে আবার তামার ব্যবহার কোথায়? অন্যদিকে ইলেকট্রিক গাড়িতে সাধারণ গাড়ির চেয়ে ৪ গুণ বেশি তামা দরকার হয়। আর এআই মূলত কোডিং ও সফটওয়্যার মনে হলেও এর জন্য দরকার বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার। সেখানে ডাটা সেন্টার, ক্যাবলিং, পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এ তামার ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে গেছে। কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক জগত যতকাল আছে তামার ব্যবহার এখন হু হু করে বাড়ছে। আপনি টুইটারে হ্যাশট্যাগ কপার লিখলেই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে।
বর্তমানে কপার বা তামার কেজি ১৩৫০ টাকা চলছে। যা পাঁচ বছর আগে অর্ধেক ছিল। ১০ ভরি রুপা ৫০ হাজার টাকায় না কিনে ৫০ কেজি কপার কিনে রেখে দিতে পারেন। দাম ডাবল হলে বিক্রি করে দিবেন। অর্থনীতি যত ফ্লো হয় কপারের দাম তত বাড়ে। যুদ্ধের শুরুতে দাম স্থির হয়, যুদ্ধ দীর্ঘ হলেই দাম লাফানো শুরু করে, যুদ্ধের পরে অর্থনীতি চাঙ্গা হলে দৌড় দেয়। কত সুন্দর একটা ধাতু যা সারা বছর দাম বাড়ে। টেনশন প্রায় নাই বললেই চলে।
বিক্রি করা যায় বংশালেই। ওরাই বাজার রেটে নেয়। কিছুটা কম বেশি হতে পারে তবে সোনা-রূপার মত গ্যাঞ্জাম তৈরী হয়নি যেহেতু অলংকারের মত চাহিদা সম্পন্ন না, উৎসবে লাফ দেয় না। ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটাল হিসাবে দারুণ অপশন।
কোন মন্তব্য নেই