মার্কেট কি তবে শেষ? কোথায় যাচ্ছে সব টাকা? Investment Alert

 সোনার দাম কমছে, রুপা আর প্ল্যাটিনামও তলানিতে। কপার থেকে শুরু করে এনার্জি সেক্টর—সবই যেন খাদের কিনারে। বাদ যাচ্ছে না শেয়ার বাজারও; নাসডাক (Nasdaq) এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) এর মতো জায়ান্ট ইনডেক্সগুলো হুড়মুড় করে পড়ছে। এমনকি ক্রিপ্টোর রাজা বিটকয়েন আর ইথেরিয়ামও এই ধস থেকে বাঁচতে পারছে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন সব পড়ে তখন সাধারণত ডলার শক্তিশালী হয়, কিন্তু এবার খোদ ডলারেরই পতন ঘটছে! প্রশ্ন জাগছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসলে যাচ্ছে কোথায়?

প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে যে বাজারের এই হারানো অর্থের একটি বিশাল অংশই আসলে প্রকৃত পুঁজি ছিল না। এটি ছিল মূলত লেভারেজ এবং কাগুজে পজিশনের বুদবুদ, যা লিকুইডেশনের মুখে পড়ে স্রেফ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। অর্থাৎ, যে টাকা কাগজে-কলমে ছিল কিন্তু বাস্তবে ছিল না, সেই অবাস্তব অংশটুকু বাজার থেকে মুছে গেছে।
দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থের গতিপথ পরিবর্তনের পরিষ্কার কিছু সংকেত আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ডলার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যার ফলে জাপানি ইয়েন এবং ইউরোর মতো কারেন্সিগুলো দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ডলারের একাধিপত্য কমিয়ে পুঁজি এখন বিকল্প বৈশ্বিক মুদ্রার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
পরিশেষে, বিনিয়োগের ধারা এখন ডিজিটাল পর্দা থেকে সরে এসে বাস্তব জগতের দিকে ঝুঁকছে। বড় বড় মূলধন এখন বিনিয়োগ করা হচ্ছে ডাটা সেন্টার, কাঁচামাল এবং জমির মতো 'রিয়েল ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট' বা স্থায়ী সম্পদে। এমনকি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বড় অবকাঠামো নির্মাণেও প্রচুর অর্থ ঢালা হচ্ছে। সহজ কথায়, অস্থির বাজার থেকে সরে গিয়ে টাকা এখন স্থায়িত্ব খুঁজছে।
এটুকু বুঝা যাচ্ছে গ্লোবালি তলে তলে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। হয়ত একটা রিসেট আসবে। যে কারণে সবাই টাকা সরিয়ে জমির মত স্থায়ী এসেটে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে অথবা ফিজিক্যাল গোল্ড - সিলভার। পেপার মানির যুগ হয়ত শেষের শুরু হতে যাচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে একটা পোস্টে বলেছিলাম, গ্লোবাল ইকোনমি একটা বাবলের উপর বসে রয়েছে যা যেকোন মুহুর্তে ব্লাস্ট করবে। এসব মাঝারি পতনগুলি দেখে সতর্ক হউন এবং ডিজিটাল মানি ছেড়ে ফিজিক্যাল প্রোপার্টিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করুন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.