৫ বছর পর সোনা রূপার বাজারে কি হবে ? Investment Alert

 সোনা- রূপা ইস্যুতে চায়ের দোকানে বসে যে ধরণের আলাপ হয় তেমন কিছু আন্তর্জাতিক আলাপ করি ? ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পর ইউরোপে একেকটা দেশের সাথে যেভাবে মাসল পাওয়ার দেখাচ্ছে তাতে ইউরোপবাসী পূর্বে আমেরিকাকে তাদের অভিভাবক মনে করলেও সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে । আমেরিকার রিজার্ভে থাকা গোল্ড ন্যাটোভুক্ত দেশসমুহ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে - গত পরশুদিন আল জাজিরার খবরে দেখলাম । এতে করে আমেরিকার প্রতি সবার আস্থা কমে যাচ্ছে । ন্যাটো কাগজে কলমে ডেড হওয়া বাকি । আমেরিকার ডেয়ারিং মুভমেন্ট সবাইকে ভাবাচ্ছে ও কৌশলগত জোটের ভেতর কেবল ইংল্যান্ড আমেরিকার পাশে রয়েছে। আমেরিকার ভেনেজুয়েলা আক্রমণের পর আমেরিকার ঘরের লোকেরাও ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করে না । এই লোক ২০২৮ সাল অবধি ক্ষমতায় থাকবে । এবং ২০২৬ সালের ভেতর বিশ্বব্যাপী যে হুলস্থুল তৈরি করেছে তাতে বড় সংঘাতের জন্য সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে । অন্যদিকে ডলারের আজকের ক্ষমতার পেছনে যে পেট্রো ডলার চুক্তি ছিল সেটাও রিনিউ করা হয়নি । ডলারের দাম যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকদিন আগে কম ছিল । এই অবস্থার মাত্র শুরু হয়েছে । আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করছে এই মুহূর্তে অনেক দেশ ।

মাসল পাওয়ারের কারণে আমেরিকা এগিয়ে থাকলেও কৌশলগতভাবে ডলারের লেনদেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে যা আমেরিকার অর্থনীতিতে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে । এর প্রভাবে গোল্ড বা সিলভারের মত ধাতুগুলি শক্তি অর্জন করছে । মানুষ তাদের অর্থ বাঁচাতে ক্রমেই এগুলির উপর নির্ভরশীল হচ্ছে । এই মুহূর্তে গোল্ড ও সিলভার যে গতিতে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে এর লাগাম কেবল আমেরিকার হাতে রয়েছে । আমেরিকা যদি সবার সাথে রাজার মত আচরণ অব্যাহত রাখে তাহলে ডলারের অবস্থান আরও কমবে এবং মানুষেরা সোনা-রূপার প্রতি আরও ঝুকবে । এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার চান্স খুব কম । বরং দিন দিন আমেরিকা বিভিন্ন ক্ষমতার চোরাবালিতে আটকে যাবে যা বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে ।
ইউরোপের দেশগুলি ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সোনা সরিয়ে নেয়া ব্যাপকমাত্রায় অব্যাহত রাখলে তাদের দাদাগিরি আরও কমে যাবে । কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিটা দেশ সোনা কেনা বন্ধই করছে না । ইউরোপ রাশিয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করায় এই জমাকৃত সোনা থেকেই তারা ২০০ বিলিয়নের বেশী প্রফিট অর্জন করেছে ২০২৫ সালে যা রাশিয়াকে বেশ স্বস্তি দিয়েছে - আল জাজিরার খবর ।
এই মুহূর্তে সোনা-রুপা যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী আচরণ করছে সেটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে যাচ্ছে যার ফল আমরা শিঘ্রই দেখবো ।
একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে, যখন সোনা-রুপার দাম বাড়তে থাকে তখন অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে । কারণ মানুষের আস্থা চলে যায় তাদেরই বানানো নিয়ম-নীতির উপর থেকে, যে কারণে তারা ঈশ্বরের হাত চেপে ধরে বাঁচার আশায় ।
সোনা গত এক বছরের কিছু বেশী সময়ে যা হাল তৈরি করেছে সেটা আগামী দিনগুলিতে আরও ম্যাসিভ ভ্যালু সংযোজন করবে যা সাধারণের নাগালের একদম বাইরে নিয়ে যাবে । অন্যদিকে সিলভার ক্রমেই স্বীয় পায়ের নিচের মাটি শক্ত করছে । এই জিনিসগুলি মনে করিয়ে দেয়, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিদায় দেয়ার সময় কাছে চলে এসেছে ।
আজকে মার্কেট চালু হওয়ার পর সোনা ৫ হাজার হিট করেছে এবং ৫১০০ ছোঁয়া দিয়েছে । অন্যদিকে রুপা ১১০ ডলার অতিক্রম করে ফেলেছে । এরা কোথায় গিয়ে থামবে সেটা অনিশ্চিত । আমার মনে হচ্ছে রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্য গরম হবে । তখন দাম আরও লাগামহীন হয়ে যাবে ।
দুইটা কথা বলে এটা শেষ করবো, আপনি যদি ৫ বছরের টার্গেটে সোনা রুপা ধরে রাখতে চান তাহলে প্রতিদিন দাম কমার বা বাড়ার আশংকা না রেখে বর্তমান বাজার দরে কিনে ফেলতে পারেন । কারণ উভয় কারেন্সি ৫ বছর পর ব্যাপক মুনাফা প্রদান করবে । কিন্তু স্বল্প সময়ের জন্য ক্রয় বিক্রয় করতে চাইলে দাম কমার অপেক্ষা করুন । তবে এটাও মনে রাখা জরুরী আপনার প্রত্যাশিত রেট পাবেন কি না, কারণ মার্কেট কারো ইচ্ছায় চলে না ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.