আসন্ন ধসে ফকির হবেন না তো? এটা ৫ লাখ টাকাকে 'লাইফ জ্যাকেট' বানানোর শেষ সুযোগ। Investment Alert

 আমরা এখন এমন এক অর্থনৈতিক বাবলের উপর দাঁড়িয়ে আছি যেটা বাইরে থেকে স্থির মনে হলেও ভেতরে ভয়ংকরভাবে ফাঁপা। অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, ঋণের পাহাড়, যুদ্ধ, ডলারের দুর্বলতা, সব মিলিয়ে এই বাবল একদিন না একদিন ফাটবেই। বাফেট তার এলফাবেটের অধিকাংশ স্টক বিক্রি করার সময় বলেছে, "Market Overvalued" মাত্র দুটো শব্দ কিন্তু এতে ভয় রয়েছে তীব্র মাত্রার। এই বিনিয়োগকারী ক্যাশ নিয়ে বসে রয়েছে - তার মতে, মার্কেট এখন নিরাপদ নয়।

প্রশ্ন হলো ফাটবে কি না সেটা নয়, প্রশ্ন হলো ফাটার সময় আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবেন। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে যদি কারও হাতে ৫ লাখ টাকা থাকে, তাহলে আজ সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে লাভের চিন্তা বাদ দিয়ে টাকাকে নিরাপদ করা।
এই ৫ লাখ টাকার মধ্যে প্রথমেই প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা রাখতে হবে ফিজিক্যাল গোল্ডে। গহনা নয়, বার বা কয়েন আকারে, যেন প্রয়োজনে সহজে বিক্রি করা যায়। গোল্ড কখনো আপনাকে রাতারাতি ধনী করবে না, কিন্তু বড় অর্থনৈতিক ধসে এটি আপনার টাকার মান ধরে রাখবে। ইতিহাসে যত বড় ক্র্যাশ হয়েছে, সোনাই শেষ পর্যন্ত মানুষের ভরসা হয়েছে। এরপর প্রায় ২০ শতাংশ অর্থাৎ এক লাখ টাকা রাখা উচিত ফিজিক্যাল সিলভারে। সিলভার অনেকেই নরমাল ভাবে, কিন্তু ভবিষ্যতের শিল্প, বিশেষ করে সোলার ও ইলেকট্রিক টেকনোলজি সিলভার ছাড়া চলবে না। স্বল্পমেয়াদে দাম নামতে পারে, কিন্তু বড় ক্র্যাশের পর সিলভারই সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেয়। এটা আসলে ভবিষ্যতের জন্য রাখা ক্রেজি এ্যাসেট যা এখন তুলনামূলক সস্তা ও পরে ভয়ংকর শক্তিশালী হবে।
এরপর প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থাৎ এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা রাখা উচিত জমিতে। এখানে শহরের ফ্ল্যাট বা ডেভেলপার প্রজেক্ট নয়, বরং পরিষ্কার কাগজের ছোট প্লট, গ্রাম বা শহরতলীতে। কারণ অর্থনৈতিক ধসের পর মানুষ আবার বাস্তব জিনিসে ফিরে যায় খাবার, জমি, বাসস্থানে। জমি কখনো শূন্য হয় না, শুধু সময় লাগে ফর্মে ফিরতে।
সবশেষে অন্তত ১৫ শতাংশ অর্থাৎ পঁচাত্তর হাজার টাকা রাখতে হবে ক্যাশ হিসেবে। হ্যাঁ, টাকা মূল্য হারাচ্ছে, কিন্তু ক্র্যাশের সময় ক্যাশই রাজা হয়। তখন সবাই বিক্রি করতে বাধ্য হয়, আর যার হাতে ক্যাশ থাকে সে সস্তায় জীবনের সেরা সুযোগটা নেয়। এই ক্যাশ কিছু হাতে, কিছু ব্যাংকে ভাগ করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।
এই পুরো পরিকল্পনার মূল কথা একটাই এই সময় লাভের নেশা করলে সর্বনাশ হবে, কিন্তু টিকে থাকার চিন্তা করলে ভবিষ্যতে সুযোগ নিজেই এসে ধরা দেবে। বাজার ভাঙবে, বাবল ফাটবে, মানুষ আতঙ্কিত হবে এটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু যারা আগেই নিজেকে প্রস্তুত করে রাখবে, তারা ধ্বংসের ভেতর থেকেও দাঁড়িয়ে যাবে শক্ত পায়ে। আপনার ৫ লাখ টাকা যদি এভাবে সাজানো থাকে, তাহলে সেটা শুধু টাকা না, সেটা হবে আপনার অর্থনৈতিক ঢাল।
অর্থনীতি সব সময় চক্রাকারে চলে। ১৯২৯ সালের 'গ্রেট ডিপ্রেশন', ২০০৮ সালের 'হাউজিং ক্রাইসিস'.... এগুলো প্রমাণ করে যে প্রতি ১০-১৫ বছর পর পর বাজারে বড় ধরনের কারেকশন বা ধস আসে। গত ১৫ বছর ধরে বাজার কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে রাখা হয়েছে, যা ফাটবার সময় পার হয়ে গেছে।
পাহাড়ের ওপর জমে থাকা বরফ কখন নিচে পড়বে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন, কিন্তু বরফ যেহেতু জমছে, তাই একদিন তা ধসে পড়বেই। বুদ্ধিমান মানুষ বরফের নিচে ঘর বানায় না।
আপনার ৫ লাখ টাকার এই প্ল্যানটি আসলে একটি ইন্স্যুরেন্স বা বীমার মতো। ধস না এলে আপনার সম্পদ বাড়ল, আর ধস এলে আপনি অন্তত নিঃস্ব হবেন না ইনশাল্লাহ্।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.