সোনা কেনার সময় মানুষ যে ৫টা ভুল করে – আপনি কয়টা করেন ?
সোনা কিনতে গেলেই দেখি মানুষ এমন সিরিয়াস হয়ে যায়, যেন NASA মিশনে যাইতেছে! কিন্তু বিশ্বাস করেন, যত সিরিয়াস হয়, তত ভুলও করে ফেলে!
আমার চেনাজানা লোকেরাও এমন ঠকছে যে দোকানদার হাসতেছিল, আর তারা ভাবতেছিলো ডিসকাউন্ট পাইছে 
চলেন দেখি, এই ৫টা ভুল আপনি করেন কিনা ----
১. ক্যারেট বুঝে না, কানের দুলে ঠকে!
দোকানদার বলে, “ভাই এইটা ২২ ক্যারেট!”
আপনি হাসিমুখে কিনে ফেলেন, কিন্তু পরে দেখা যায় আসলে ২১ ক্যারেট
একটা সহজ ট্রিক: সোনায় “৯১৬” বা “৯২৫” মার্কিং খুঁজেন, বা ২২, ২১ লেখা খুঁজেন, না থাকলে মেশিন টেস্ট ছাড়া এক টাকাও দেবেন না।
২. ওজন কমায় কায়দা করে!
দেখবেন, ওজন মেশিনে সোনার সাথে চেইন বা ট্যাগসহ মাপে।
আর আপনি ভাবেন, ‘অরিজিনাল ওজনই মাপতেছে।
ভাই, আমি একবার গিসিলাম, ওজন দিলো ১২.৬ গ্রাম,
বাড়ি এসে দেখি সার্টিফিকেটে লেখা ১২.১ গ্রাম।
চোখ রাখেন মেশিনের স্কেলে আর ট্যাগ খুলে মাপান। চেনা দোকান। তাই সার্টিফিকেট খুলে দেখিনি। পরে বদলায়া নিছি। সামান্য একটা ট্যাগ বা স্টিকার কয়েক রতি ওজন বাড়িয়ে দেয়। ৯৯% কাস্টমার এখানে কট খায়! আপনিও খাইছেন, আজকের পর আর খাবেন না। হাহাহা।
৩. মেকিং চার্জে মারাত্মক ঠকায় !
সোনার দাম ঠিক আছে, কিন্তু মেকিং চার্জে এমন করে যে,
মনে হবে দোকানদার NASA থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনছে সোনার দুল বানাতে।
কেউ ৫০০০ টাকা দিয়া দুল কিনে, মেকিং চার্জে দেয় ৩০০০ টাকা । মানে আধা দুলই মেকিংয়ে গেল!
তুলনা করে দেখেন, দোকানভেদে পার্থক্য ভয়ানক।
৪. বিল নেয় না, পরে কাঁদে।
বেশিরভাগ সময় মানুষ বিল নিতে চায় না, ভাবে যে “বিল নিলে ট্যাক্স বাড়ে!” আরে ভাই, বিলই তো প্রমাণ আপনি আসল মাল কিনেছেন! বিল না নিলে পরেরবার বিক্রি করতে গেলে দোকানদার কয়, “ভাই, এইটা তো আমার দোকানের না!”
তারপর ওই একই দোকানেই আবার অর্ধেক দামে রি-সেল করেন 
৫. ডিসকাউন্টে লোভে পরে, ফেক পণ্যে ফাঁসে!
দোকানদার কয়, “ভাই আজকে অফার চলছে, ২৫% ছাড়!”
আর আপনি ভাবেন লটারি পাইছেন 
কিন্তু সেই সোনার নিচে থাকে কপার মিশানো, প্লেটেড গোল্ড বা 18k ধোঁকা। ঈদ, পূজার সময় ফেবু স্ক্রল করাই দায় হয়ে যায়। ডিসকাউন্টের ছড়াছড়ি। হাহাহা! আর এসব টোপ খায় মহিলারা। সহজেই এদের ঠকানো যায়, এরা নিজেরাও জানে না। ডিসকাউন্ট, ফ্রি, সস্তা, দাম কম, লেখা দোকান, ভিডিওতে এদের ভীড় মাছির মত।
রুলটা মনে রাখেন: “যত বেশি ছাড়, তত কম সোনা!”
সোনা কেনা মানে ইনভেস্টমেন্ট।
আর ইনভেস্টমেন্টে ভুল মানে লাভের জায়গায় ক্ষতি।
তাই হুট করে দোকানে ঢুকে না কিনে,
আগে জানা দরকার – ক্যারেট, বিল, মেকিং, টেস্ট, মার্কিং – সবকিছু!
সোনা চকচকে হইলেই আসল হয় না ভাই, দোকানদারের হাসি দেখেন – বেশি হাসলে বুঝবেন কিছু একটা গোলমাল আছে
আমার আইডির পূর্বের পোস্ট চেক করলে সোনার ওজন, আসল সোনা চেনা, ক্যারেট পদ্ধতি, মার্কিং, সোনার পরিমাপ, দাম ক্যালকুলেশনসহ যা কিছু জানা দরকার সবই পোস্ট আকারে দেয়া আছে।
.
.
একটা শেয়ার করে দিয়েন, এটা আপনার জন্য সদকা হবে।
প্রতিটা ভালো জিনিস আপনার জন্য সদকা। ধন্যবাদ
কোন মন্তব্য নেই